৫০০ কোটি টাকা – এমপির শ্যালিকার

0
760
৫০০ কোটি টাকা - এমপির শ্যালিকার
৫০০ কোটি টাকা - এমপির শ্যালিকার
৫০০ কোটি টাকা – এমপির শ্যালিকার
দিনম”জুর বাবার সংসারে তিনবেলা ঠিকমতো’ খাবার জুটত না’। অর্থের অভাবে লেখাপড়াও হয়নি। সেই হ’তদরিদ্র পরি’বারের সন্তান জেসমি’ন প্রধান এখন’ বিত্তশালী। বাড়ি, গাড়ি, আলিশান ফ্ল্যাট’—কী নেই তাঁর।
সাত বছরের ব্যবধানে তিনি ৫০০ কোটি টাকার মালিক বনে ‘গেছেন। শুধু তাঁর পাঁচটি ব্যাংক ‘হিসাবেই ১৪৮ কোটি ৪২ লাখ’ টাকার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অথচ ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই।
দুদকের অ’নুসন্ধানে উঠে এসেছে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কা’জী শহিদ ইসলাম পাপুলের মানবপাচা’রের টাকায় শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এখন সম্পদশালী।
কুয়েতে মানবপাচারের হোতা পা’পুল অর্থ ও মানবপাচারের মাধ্’যমে হাতিয়ে নেও’য়া অর্থ আড়াল করতে শ্যালিকার অ্যাকাউন্টে রাখেন। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ পথে অর্জিত বিপুল অর্থ বৈধ হিসাবে দেখাতে শ্যালিকা জেসমিনে’র মালিকানায় ‘লিলাবালি’ ‘নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানও গড়ে ‘তোলেন এমপি পাপুল।
ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচ’টি ব্যাংক হিসেবের মা’ধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাচার করা হ’য় ১৪৮ কোটি টাকা। এই পরি’মাণ টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্’ডারিংয়ের অপরাধে এমপি পাপুল, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান এবং শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
দুদকের’ তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান জেসমিন প্রধান। বড় বোন ‘সেলিনা ইসলামের বিয়ে হয় কুয়েতপ্রবাসী কাজী শহিদ ইস’লাম পাপুলের সঙ্গে। পাপুল মান’পাচারের মাধ্যমে অর্জিত টাকা শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের অ্যাকাউন্টে এবং নামে-বেনামে কোটি ‘কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলেন। পাঁচটি অ্যাকাউন্টে ১৪৮ কোটি টাকার এফডিআরসহ জেসমিন এখন প্রায় ‘৫০০ কোটি টাকার মালিক।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন’ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে ‘জেসমিনের প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে।’ একটি ব্যাংকেই তাঁর ৩৪টি এফডিআর হিসাব রয়েছে। এফডিআর হিসাবের দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭.৫৩ টাকার কোনো উৎস জেসমিন দেখাতে পারেননি। সে কার’ণে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তাঁকে আরো মামলা’র মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়’, অবৈধ উপা’য়ে অর্জিত জেসমিন প্রধানে’ নিজ নামে ২০টি এফডিআরে এক কোটি টাকা, বোন’ সেলিনা ইসলামের নামে ২৯৫টি এফডিআরে ২০ কোটি ৮৬ লা’খ টাকা, বোনজামাই শহিদ ইসলাম পাপুলের নামে ২৩টি এফডিআরে দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা পায় দুদক। ‘এ ছাড়া পাপুলের মেয়ে ওয়াফা
ইসলা’মের নামে ৪১টি’ এফডিআরে দুই কোটি ২৯ লাখ টাকা’সহ মোট ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টা’কা জেসমিন প্রধানের একটি ব্যাংকের হিসাবে লগ্নি করে ২৫ কোটি ২৩ ‘লাখ টাকার ওভার ড্রাফট সুবিধা গ্রহণের প্রমা’ণ মেলে। সব মিলে বিভিন্ন হিসা’বের মাধ্যমে পাচার হয়েছে ১৪৮ ‘কোটি টাকা।
এদি’কে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ’ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তাঁর স্ত্রী এম’পি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেস’মিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ‘এই অনুমোদন দেও’য়া হয়। শিগগিরই সংস্থাটির ‘অনুসন্ধান কর্মকর্তা ‘উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বা’দী হয়ে মামলাটি করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here