অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী #মিজানুর_রহমান_আজহারী

0
496
অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী ,,-01
অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী
অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী,  নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইখালে শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে আজহারি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মন্তব্য জানিয়েছেন। একইসাথে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের স্মরণীয় রাখতে ভাস্কর্যে নয় হৃদয়ে ধারণ করতে ও ভাস্কর্য বা মূর্তি না নির্মাণের পেছনে যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো,

‘হৃদয়ে অমর হোক, ভাস্কর্যে নয় ॥
ভাস্কর্য শিল্প— এটি অমুসলিমদের কৃষ্টি সমৃদ্ধ একটি শিল্প বা কলাকৌশল। কোনো ব্যক্তি যতো সম্মান আর মর্যাদার অধিকারী হোক না কেন, তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরি ইসলামে বৈধ নয়।
.
ইব্রাহীম (আ:)-এর পদচিহ্নকে স্মৃতিময় করে রাখতে, মাকামে ইব্রাহীমে সালাত আদায়ের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে আজও ওনার ফুটপ্রিন্ট সংরক্ষিত আছে। কিন্তু কারো পুরো দেহাবয়ব সংরক্ষণ— এটি সম্পূর্ণ অনৈসলামিক সংস্কৃতি। ইসলামে মানুষের বা প্রাণীর মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য তৈরীকে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী ধর্মবিশ্বাসের সাথে পৌত্তলিক এই ধারণাটি, পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত এঙ্গেলে অবস্থান করে।
.
কিছু কিছু ব্যাপার আছে যেগুলোতে ইসলাম খুবই স্ট্রিক্ট। ফলে সেসব ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দেয়ারও কোন সুযোগ নেই। শিরক তন্মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কুরআনুল কারিমে শিরককে “জুলমুন আযিম” তথা মহাঅন্যায় বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই, বাহ্যত শিরক নয় কিন্তু ভবিষ্যতে এটা কোনভাবে শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে অথবা শিরকি কার্যকলাপের সাথে এর সাদৃশ্য আছে— এমন জিনিসকেও ইসলামে হারাম করা হয়েছে। ভাস্কর্যের ব্যাপারটিও ঠিক এমন।
.
পৃথিবীতে নূহ (আ:) এর জামানায় সর্ব প্রথম শিরকের উৎপত্তি হয় ঠিক এভাবেই। সে জনপদে অত্যন্ত আল্লাহভীরু পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর, শয়তানের প্ররোচনায় প্রথমত তাদেরকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে সেই জনপদের লোকেরা পাঁচটি ভাস্কর্য তৈরী করে এবং পরবর্তীতে তারা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তাদের উপাসনা শুরু করে দেয়। আর এভাবেই পৃথিবীতে শিরকের সূচনা হয়।
.
প্রাচীন গ্রীক ও রোমানরা ভাস্কর্যের মাধ্যমে বিখ্যাত ব্যক্তিদেরকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইতো, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম তাদেরকে ভক্তিভরে স্মরণ করে। এভাবে, গোটা দুনিয়াব্যাপী অনেক ভাস্কর্য তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু এই ভাস্কর্য কি তাদের সবাইকে জনমনে ইতিবাচক ইমেজ এনে দিতে পেরেছে? আসলে, মানুষ স্মরণীয় হয়ে থাকে তার কর্ম দিয়ে। কর্মগুণে মানুষ মরে গিয়েও বেঁচে থাকে মানুষের অন্তরে। যেমন ধরুন, হিটলারের ভাস্কর্য আছে, ফিরআউনের মমি আছে। কিন্তু তাদের জন্য আছে সবার ঘৃনা। অন্যদিকে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং চার খলিফার ভাস্কর্য নেই এমনকি কোন ছবিও নেই। কিন্তু হাজার বছর পরেও বিশ্ববাসী তাদেরকে মনে রেখেছে, মনেপ্রাণে তাদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করেছে।
.
সরকার চাইলে, প্রয়োজনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ভাইদের উপসনালয়গুলোতে কিংবা তাদের স্থায়ী আবাসিক এলাকাগুলোতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে তাদের ধর্মীয় ভাস্কর্য কিংবা মূর্তি নির্মাণ করে দিতে পারে। এতে কারো কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে, দেশের অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং গ্রহণযোগ্য আলেম ওলামাদের মতামতকে উপেক্ষা করে, পাবলিক প্লেসে এভাবে ভাস্কর্য স্থাপন কোন ভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
.
তাছাড়া, প্রিয় মানুষের প্রতিকৃতি রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে অথবা মাথার উপর কাক বসে মল ত্যাগ করবে— এর কোনটাই কারোরই ভালো লাগার কথা নয়।
.
মুক্তমনা ও প্রগতিশীল দাবীদার যারা এতদিন কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা গরিবদের মাঝে দান করে দেয়ার কথা বলতেন। তাদের কেউ কি ভাস্কর্য না বানিয়ে সেই টাকা গরিব দু:খীদের মাঝে বিতরণ করে দেয়ার কথা বলেছেন? করোনা কালে ব্যপকভাবে মানুষ খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছে। এমন ক্রান্তিকালে ভাস্কর্য তৈরী নিয়ে পুরো দেশে এরকম অস্থিতিশীলতা তৈরী করা মোটেও কাম্য নয়।
.
নগরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের এবং দেশের মহান ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি সংরক্ষণের কার্যকর অনেক পদ্ধতি রয়েছে। আমরা চাইলেই ন্যাশনাল হিরোদের নামে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নত মানের লাইব্রেরি, গবেষণাগার, সড়ক, সেতু, রিসার্চ সেন্টার, ইনস্টিটিউট, চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ইত্যাদি নির্মাণ করতে পারি। অথবা তাদের কর্মের উপর নির্মিত তথ্যবহুল ডকুমেন্টারি, আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইট, রিসার্চ গ্র্যান্ট কিংবা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় সেমিনার সিম্পোজিয়াম ইত্যাদির উদ্যোগ নিতে পারি। এতে করে দেশের উন্নয়ন হবে, দশের উপকার হবে এবং স্মরণীয়রাও আরো স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
‘মুক্তমনা ও প্রগতিশীল দাবিদার যারা এতদিন কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা গরিবদের মাঝে দান করে দেয়ার কথা বলতেন। তাদের কেউ কী ভাস্কর্য না বানিয়ে সেই টাকা গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করে দেয়ার কথা বলেছেন?’। এমন প্রশ্ন তুলেছেন মিজানুর রহমান আজহারি
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি নিয়ে যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী।
#mizanur_rahman_azhari
#new_waz
#bangla_waz
Mizanur rahman azhari new waz 2020, mizanur rahman waz, azhari new waz, mizanur rahman azhari waz, mijanur rahman azhari new bangla waz, new waz mizanur rahman azhari, azhari waz 2020, kazi ibrahim, mizanur rahman azhari waz 2019, waj bangla, waz bangla, waz 2020, মিজানুর রহমান আজহারী, মিজানুর রহমান আজহারী নতুন ওয়াজ, মিজানুর রহমান আজহারী নতুন ওয়াজ 2020, mizanur rahman azhari gojol, azhari islamic song, new islamic song, islamic waz, islamic waj Delwar Hossain Saidi, mizanur rahman azhari mahfil 2020, allama mamunul haque waz
অবশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী
বঙ্গবন্ধুর তর্জনীর ৭১ ফুট ভাস্কর্য নির্মা’ণ হচ্ছে, ঢাকা, ১৬ নভেম্বর’- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ‘রহমানের শূন্যে উত্থিত তর্জনীর ৭১ ফুট ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে রাজধানীর ‘পূর্বাচলে। সব কিছু ঠি’কঠাক থাকলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই ৭১ ফুট ভাস্ক’র্যের নির্মাণকাজ শেষ হবে। নির্মাণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছে মার্চ মাসে ‘বঙ্গব’ন্ধু চত্বর’ এর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here